ইসলামে দাম্পত্য সম্পর্কের জন্য (সহবাসের) নির্দিষ্ট সময় বা পরিস্থিতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এটি মূলত পবিত্রতা, স্বাস্থ্য এবং ধর্মীয় বিধানের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত। নিচে সহবাসের নিষিদ্ধ সময়গুলো ব্যাখ্যা করা হলো:
১. নারীর মাসিক বা হায়েজ ও নিফাসের সময়
মাসিক (হায়েজ) চলাকালীন:
- কুরআন ও হাদিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে নারীর মাসিক চলাকালীন সময় সহবাস নিষিদ্ধ।
- আল্লাহ বলেন:
"তারা তোমাকে হায়েজ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বল, এটি অশুচিতা। সুতরাং হায়েজ অবস্থায় তোমরা তাদের থেকে দূরে থাকো এবং তাদের নিকটবর্তী হয়ো না যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়।"
(সূরা আল-বাকারা: ২২২) - এই সময় শারীরিক মিলন করা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
নিফাস (সন্তান জন্মের পর রক্তপাত):
- সন্তান জন্মের পর নারীর নিফাসের সময় (সাধারণত ৪০ দিন পর্যন্ত) সহবাস করা নিষিদ্ধ।
- এটি নারীর শরীরের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২. রোজা চলাকালীন দিনে
- রমজানের দিনে:
- রোজা পালন চলাকালীন (ফজরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত) সহবাস করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- আল্লাহ বলেন:
"...রোজার রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের সঙ্গে মিলিত হওয়া হালাল করা হয়েছে..."
(সূরা আল-বাকারা: ১৮৭) - তবে রোজা ভাঙার পর (মাগরিব থেকে ফজর পর্যন্ত) সহবাস করা বৈধ।
৩. হজ বা ওমরাহ চলাকালীন ইহরামের সময়
- ইহরামের সময়:
- হজ বা ওমরাহর সময় ইহরামের অবস্থায় থাকাকালে সহবাস করা নিষিদ্ধ।
- এটি করলে ইবাদতের সঠিকতা নষ্ট হয় এবং ফিদইয়া দিতে হয়।
৪. নামাজ বা ইবাদতের সময়
- নামাজের জন্য প্রস্তুত থাকার সময়:
- যখন নামাজের সময় হয়ে যায় এবং ফরজ নামাজের আগে মিলনের জন্য যথেষ্ট সময় না থাকে, তখন সহবাস করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
৫. অশুচিতার সময়
- পবিত্রতা নিশ্চিত না থাকলে:
- ইসলামে পবিত্রতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সহবাসের আগে এবং পরে উভয়কেই পবিত্র থাকা এবং গোসল (গোসল জানাবাত) করা ফরজ।
৬. প্রকাশ্যে বা অনৈতিক পরিবেশে
- গোপনীয়তার অভাব:
- ইসলামে সহবাস একটি গোপনীয় ও সম্মানের বিষয়। এটি প্রকাশ্যে বা এমন পরিবেশে করা যেখানে অন্য কেউ জেনে যেতে পারে, তা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
উপসংহার
ইসলাম সহবাসকে বৈধ, সুন্দর, এবং স্বাস্থ্যকর হিসেবে দেখেছে তবে এটি নির্দিষ্ট নিয়ম ও সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এসব নিয়ম মেনে চলা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং সম্পর্কের পবিত্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

No comments:
Post a Comment